ডেটা যেখানে মানুষের কাছাকাছি

বাংলাদেশে বোরো: হাওরে উৎপাদন কেমন বড়?

পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের হাওর-প্রধান তিন জেলা সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের বোরো ধান। জেলাগুলো দেশে বোরো উৎপাদনে শীর্ষ ১০ জেলার প্রথম চারটির দুইটি।

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, বড় ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

তলিয়ে গেলে ক্ষতি কেমন

কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

তবে ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের আবাদি জমি তলিয়ে গেলে কত পরিমাণ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো নেই।

সর্বশেষ প্রকাশিত ডেটার হিসেবে, হাওর-প্রধান তিন জেলার ধান পাহাড়ি ঢলে নষ্ট হলে মোট ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। যা দেশের মোট বোরো ধান চাষাবাদি জমির প্রায় ১১.৮ শতাংশ।

তিন জেলায় ১২%

আসুন ডেটার ভিত্তিতে দেখে নেয়া যাক, হাওর-প্রধান তিন জেলার বোরো চাষ ও উৎপাদনের অবস্থা। দেশে উৎপাদিত মোট বোরো ধানের প্রায় ১২% হয় হাওর-প্রধান তিন জেলায়।

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের সর্বশেষ প্রকাশিত ডেটায় দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সুনামগঞ্জে বোরো ধান উৎপাদন হয় প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন। যা দেশের মোট বোরো ধান উৎপাদনের ৪ শতাংশ।

এছাড়াও নেত্রকোনায় বোরো ধানের উৎপাদন হয় ৮.১ লাখ মেট্রিক টন। হাওরের জেলা কিশোরগঞ্জে উৎপাদিত হয় প্রায় ৭ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান।

সেই বছর হাওরের এই তিন জেলা মিলিয়ে মোট বোরো ধান উৎপাদিত হয় প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিক টন। যা দেশের মোট বোরো উৎপাদনের ১১.৭ শতাংশ।

চাষ ও উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহ

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের ডেটা অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বোরো চাষের জমি ও উৎপাদনে শীর্ষে ছিল ময়মনসিংহ জেলা। ময়মনসিংহে ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর (৫.৪%) জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হয় ১০ লাখ মেট্রিক টন। যা মোট উৎপাদনের ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে সেবার বোরো ধান চাষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেলা ছিল সুনামগঞ্জ (২১৫৯১১ হেক্টর)। যা দেশের মোট বোরো আবাদি জমির ৪.৫ শতাংশ।

২০২০ সালে নেত্রকোনায় বোরো ফসলের আবাদ হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯১ হেক্টর জমিতে (৩.৮%)। সেবছর কিশোরগঞ্জ জেলায় বোরো ফসল হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার ১১৪ হেক্টরে, যা দেশের মোট বোরো জমির ৩.৫ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সারাদেশে বোরো ধানের চাষ হয় ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। এই আবাদি জমির বিপরীতে বোরো উৎপাদন হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৪ মেট্রিক টন।