ডেটা যেখানে মানুষের কাছাকাছি

দিনে গড়ে ৫৮টি অগ্নিকাণ্ড, মূল কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ

বাংলাদেশে গতবছর অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ২১,০৭৩টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড় অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ৫৮। একই সময়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন মানুষ।

২০১৪ সালের পর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা শতকের নিচে নেমে এলেও, ২০১৮ সাল থেকে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী।

গত ১২ বছরে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ওঠানামার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় ২৭১ জন। সেবছর রাজধানীর নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সে অগ্নিকাণ্ডে ১২৫ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল।

২০১২-তে ঢাকার তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১২ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেবার এক বছরে মোট নিহত হয় ২১০ জন মানুষ।

এরপর ২০১৯ সালে এসে অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ১৮৪ জন। সেই বছর পুরান ঢাকার চকবাজার ও ঢাকার বনানী এলাকায় একটি বহুতল বাণ্যিজিক ভবনের অগ্নিকাণ্ডে যথাক্রমে ৮১ ও ২৬ জন মারা যান।

তবে এ সময়ের মধ্যে সবচে বেশি প্রাণহানি (৩৬৫ জন) হয় ২০১১ সালে। তবে সে বছর এত মানুষের প্রাণহানির নির্দিষ্ট কোনো কারণ ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আগুনে ক্ষতি কমেছে

২০০৯ সালে দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা প্রথম ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর দুই বছর পরেই ২০১১ সালে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৯ সালে এসে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ে দ্বিগুণ। সে বছর অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৭৪টি।

তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২০ সালে সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি টাকা।

গত ১২ বছরে অগ্নিকাণ্ডে দেশে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে বছর ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে ৮৫৭ কোটি। ২০১৩ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। ২০১২ সালে প্রায় ৪৮২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ

গেল বছর মোট অগ্নিকাণ্ডের (২১,০৭৩) মধ্যে শুধু বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই অগ্নিকাণ্ড হয় ৭,৭২৯টি। হার বিবেচনায় যা প্রায় ৩৬%।

গত ৬ বছরে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রতিবছর বৈদ্যুতিক গোলযোগের ফলেই সবচে বেশি অগ্নিকাণ্ড হয়।

বিগত বছরগুলোতেও এ চিত্র প্রায় এক। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ৩৪-৩৯% কারণ এই বৈদ্যুতিক গোলযোগ।

২০২০ সালে চুলা ও সিগারেট থেকে আগুনের ঘটনায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার।

এছারাও অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণগুলোর মধ্যে আছে ছোটদের আগুন নিয়ে খেলা, উত্তপ্ত ছাই/জালানী, খোলা বাতি, মিস ফায়ারের মতো নানান কারণ।