ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবহারোপযোগী করব কিভাবে

.

তাহলে আমরা ডেটা পাব কিভাবে? ডেটা পাওয়ার জন্য গুগলে সার্চ করার প্রক্রিয়াটি আমাদের মস্তিষ্ক থেকেই শুরু করতে হবে। যে বিষয়ে ডেটা পেতে চাই সে বিষয়ে ডেটার উৎস কি সেটি ভেবে নিতে হবে। যেমন অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত ডেটার উৎস কী হতে পারে? অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কাজ করে থাকে যে সরকারি সংস্থাটি সেটিই নিশ্চয় প্রাথমিক উৎস হওয়া উচিত। বিশ্বের সব দেশে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব থাকে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট বিভাগের হাতে। সব দেশেই এই বিভাগটির নাম ‘ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স’। এই শব্দবন্ধের শুরুতে বাংলাদেশ শব্দটি জুড়ে দিয়ে আমরা গুগল সার্চ করতে পারি। সেই সার্চের ফলাফল পৃষ্ঠা থেকে লিঙ্কে ক্লিক করে আমরা চলে যেতে পারি ফায়ার সার্ভিস ওয়েবসাইটে। সেখানে ‘পরিসংখ্যান’ বিভাগের ‘দুর্ঘটনা, উদ্ধার এবং বাৎসরিক পরিসংখ্যান’ বাটনে ক্লিক করলেই আমরা বছর ওয়ারি অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত ডেটা পাব।

তবে এই ডেটা সরাসরি ব্যবহারোপযোগী অবস্থায় পাওয়া যাবে না। এই ডেটা পাওয়া যায় পিডিএফ আকারে। উপরন্তু ডেটাগুলি রয়েছে কয়েকটি গুচ্ছে ভাগ করা অবস্থায়। পিডিএফ ফাইলের এই ডেটাকে সর্ট করার কোনো উপায় নেই। ডেটাগুলি সর্ট করা গেলে কোথায় বেশি দুর্ঘটনা, কোথায় বেশি ক্ষতি বেশি এসব একনজরে দেখে নিয়ে সহজে ইনফোগ্রাফিক তৈরি করা যেত।

.

তাহলে এই পিডিএফ ডেটা আমরা ব্যবহার করব কিভাবে? পিডিএফ ফাইলকে স্প্রেডশিটে রূপান্তরের জন্য একাধিক অনলাইন ও অফলাইন সফটওয়্যার রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পিডিএফ ফাইলটি বিজয় ফন্টে লিখিত হওয়ার কারণে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এক্সেলে রূপান্তরের সুবিধাটি এখানে পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে পিডিএফ থেকে দেখে-দেখে স্প্রেডশিটে তথ্যগুলি যুক্ত করতে হবে। তারপর সেগুলি সর্টিং করে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ইত্যাদি তথ্য দেখা যাবে। সেগুলির ভিত্তিতে বিভাগীয় পর্যায়ে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে একটি ইনফোগ্রাফিক তৈরি করা সম্ভব।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দেশের বিভাগগুলিকে পৃথক রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সব বিভাগের নাম লেখা হয়েছে একই রঙে। কারণ এগুলো একই শ্রেণীর তথ্য। ইনফোগ্রাফিকের মৌল নীতি মেনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যাটি লেখা হয়েছে সবচেয়ে বড় আকারে। একইভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সংখ্যাটির ফন্টের আকারও ক্ষতির সংখ্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় দেয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষতি- দুটির ফন্টেই একই রং ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এই ক্ষতির পরিমাণ অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত, অন্য কোনো ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ নয়।