কেন ডেটা সাংবাদিকতা

সংবাদ সংগ্রহের প্রচল পদ্ধতিতে সংবাদ তৈরি সম্ভব নয় এমন সব বিষয়ে উন্মুক্ত ডেটা ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি করা যায়।

.

প্রতিবেদনে ডেটা ব্যবহার করবেন কেন? বা শুধুই ডেটাকে ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন কেন? বাংলাদেশে গত এক দশকে বিপুল পরিমাণ ডেটা উন্মুক্ত হয়েছে। এক দশক আগেও নানা বিষয়ে তথ্য জানতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সশরীরে যেতে হতো। যাওয়ার পরও তথ্য-উপাত্ত সেখানে সহজলভ্য ছিল না। বিপুল পরিমাণ সময় ব্যয় করে কিছু তথ্য হয়ত পাওয়া যেত।

ইন্টারনেটের বিস্তৃতি তথ্য-উপাত্তকে একেবারে আমাদের হাতের নাগালে এনে দিয়েছে। এখন অফিস-বাসায় বসে কম্পিউটারে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েই বিভিন্ন বিষয়ের ডেটা পাওয়া সম্ভব। সম্ভব বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি নানা প্রকাশনা হাতে পাওয়া। সরকারি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নানা রকম জরিপ করছে। সেইসব জরিপের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে নিয়মিতই প্রকাশনাও হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে। অনেক ক্ষেত্রে জরিপের ফল নিয়ে সংবাদ সম্মলেনও করে থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি।

যেমন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স’ (এসভিআরএস) জরিপ। ব্যুরো প্রতিবছর এই জরিপটি পরিচালনা করে থাকে। জরিপ শেষে এর ফল নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও করে ব্যুরো।এতে সচরাচর বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয় ব্যুরো। ফলে সংবাদ সম্মেলনের দিন সব অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও স্যাটেলাইট চ্যানেলে গড় আয়ু বিষয়ক খবরটিই প্রকাশ হয়, প্রাধান্য পায়। একইভাবে পরদিন দেশের সব মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমে ওই বিষয়টিই মূল বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়।

৩.২

অথচ বিবিএসের ওই প্রতিবেদনটি শদুয়েক পৃষ্ঠার হয়ে থাকে। এতে থাকে বাংলাদেশের মানুষের খাওয়ার পানির উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে বিপুল পরিমাণ ডেটা। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলি বিবিএসের সংবাদ সম্মলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই আটকে থাকে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার নানা সূচক নির্দেশক এই বিপুল ডেটার অন্তর্নিহিত অর্থ আর মানুষের কাছে পৌঁছায় না।

যেমন দেশের নারী-পুরুষের বিয়ের গড় বয়স। এই বিষয়টি এসভিআরএস-র অন্তর্ভুক্ত। এই ডেটা বিশ্লেষণে যে-তথ্য উঠে আসে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় না। ২০১৭ ও ২০১৬ সালের এসভিআরএস ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় রাজশাহী বিভাগে ২০১৭ সালে নারীর বিয়ের গড় বয়স ১৮-র নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে সিলেট বিভাগে নারীর বিয়ের গড় বয়স হয়েছে ২১ বছর।

৩.৩

ডেটা ভিত্তিক সংবাদ একটি সংবাদমাধ্যমের সংবাদে বৈচিত্র্য যোগ করে। সংবাদ সংগ্রহের প্রচল পদ্ধতিতে সংবাদ তৈরি সম্ভব নয় এমন সব বিষয়ে উন্মুক্ত ডেটা ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি করা যায়। যেমন ধরা যাক প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়টি। বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী বললে আমাদের মনে শ্রমিকদের কথাই আমাদের মনে আসে। কিন্তু শ্রমিকের পেশা ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তো বিদেশে আরো বিভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত। সেইসব পেশাভিত্তিক তথ্যের খবর তৈরি করা যায় ডেটার ভিত্তিতে। যেমন বিবিএসের এসআইআর প্রতিবেদন ২০১৬ এর ডেটাভিত্তিক নিচের প্রতিবেদনটি:

বিবিএসের প্রকাশিত ডেটাকে ভিত্তি করে এই যে প্রতিবেদন, এরকম প্রতিবেদন বাংলাদেশে বসে একজন সাংবাদিকের পক্ষে প্রচল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তৈরি করা সম্ভব নয়। অথচ প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে তা পাঠকের জন্য যথেষ্ঠ আগ্রহোদ্দীপক। তারা জানতে পারছেন যে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের এক-তৃতীয়াংশের পেশা চাকরি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রায় অর্ধেকের পেশা চাকরি।