চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও সাংবাদিকতা

ইন্টারনেট এমন এক বিপ্লব যাতে নতুনতর বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্বের সব জায়গায় একই সময়ে বা কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে যায়।

১.১

গোটা পৃথিবী জুড়ে এক বদল। যার মূলে একটি বস্তু- ইন্টারনেট। গত শতকের ৮০-র দশক থেকে এ পালাবদলের শুরু। চলতি শতকের প্রথম দশকের শেষ প্রান্তে আবির্ভূত হলো ইন্টারনেটের সহযোগী স্মার্টফোন। তারপর ইতিহাস। ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন মিলে বদলে দিল মানুষের অভ্যস্ত জীবনযাপনের ধারণা। মুছে গেল বাস্তব ও ভার্চ্যুয়ালের সীমারেখা। এই সময়টিকে বলা হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগ। এই শিল্প বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু ইন্টারনেট। এই বিপ্লব সার্বক্ষণিক সংযুক্ততাকে মানুষের জীবনের এক মৌল সত্য করে তুলেছে।

.

উনিশ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডে প্রথম শুরু হলো বাষ্পীয় ইন্জিনের রেল চলাচল। তেমন রেল চলাচল ভারতীয় উপমহাদেশে শুরু হতে লেগে গেলো আর ৪০ বছর। কিন্তু ১৯৯০-এ আবিষ্কৃত ইন্টারনেট বাংলাদেশ-ভারতে পৌঁছে যায় দু-তিন বছরের মধ্যেই। ২০০৭-এ আইফোন আসে আমেরিকার বাজারে। এর ৩-৫ বছরের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্মার্টফোন পৌঁছে যায় বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে। উন্নত বিশ্বের মানুষ যেসময় স্মার্টফোনে গুগল ম্যাপস ব্যবহার করার সুযোগ পায় বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর কাছেও তা সেসময়ই উন্মুক্ত হয়। ইন্টারনেট এমন এক বিপ্লব যাতে নতুনতর বৈশিষ্ট্যগুলি বিশ্বের সব জায়গায় একই সময়ে বা কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে যায়। এজন্য দশকের পর দশক সময় পেরিয়ে যায় না।

.

অন্যান্য নানা ক্ষেত্রের মতো সাংবাদিকতায়ও সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে ইন্টারনেট। ছাপা সংবাদমাধ্যমের পরিসর সঙ্কট ওয়েবসাইটে নেই। ফলে সাংবাদিকতায় এসেছে বিষয় ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্যের সুযোগ। ওয়েবসাইটে সংবাদে যুক্ত হচ্ছে অডিও-ভিডিও। তাও প্রায় এক দশক হতে চলল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্ত হয়েছে লং-ফর্ম ডিজিটাল স্টোরি। তবে ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের অবারিত পরিসরের সুযোগ নিয়ে ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে সাংবাদিকতার নতুনতর ধরন ডেটা সাংবাদিকতা।

.

স্বাভাবিকভাবেই ডেটাকে ভিত্তি করে যে সাংবাদিকতা তা ডেটা সাংবাদিকতা। কিন্তু ডেটা কী? ডেটা বলতে আমরা সংখ্যাকেই বুঝে থাকি। ডেটার সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘পরিসংখ্যান’ শব্দটির ব্যবহারও বাংলায় চোখে পড়ে। তবে ‘ডেটা’ ও ‘পরিসংখ্যান’ সমার্থক নয়। কোনো বিষয়ে সংগৃহীত সংখ্যাভিত্তিক উপাত্ত হলো ‘ডেটা’। আর সেই ‘ডেটা’ সংগ্রহ, বিন্যাস ও বিশ্লেষণে ব্যবহৃত একটি প্রক্রিয়া হলো ‘পরিসংখ্যান’।

.

ধরুন আপনি কোনো একটি বিষয়কে বিশ্লেষণ করতে চান। সেজন্য সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উপাত্ত সংগ্রহ করবেন। সেই উপাত্ত হতে পারে সংখ্যা, হতে পারে শব্দও। সংগৃহীত সেই উপাত্তগুলিই হলো আপনার প্রয়োজনীয় ‘ডেটা’। সেই ‘ডেটা’ থেকে ওই বিষয় সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রবণতা খুঁজে বের করতে যে-পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া ব্যবহার করবেন তা-ই হলো ‘পরিসংখ্যান’।

মনে রাখা ভালো যে, সাংবাদিকতা ও পরিসংখ্যান- এই দুই ক্ষেত্রে ডেটার ব্যবহার ও বিশ্লেষণ এক নয়।